শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩


ইংলিশ পরীক্ষায় পাস করতে হালান্ডদের সামনে যেসব চ্যালেঞ্জ

খেলা ডেস্ক

প্রকাশিত:১১ জুলাই ২০২৬, ১৫:৫৬

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

তিন সপ্তাহের টানটান উত্তেজনা, নাটকীয় প্রত্যাবর্তন আর রুদ্ধশ্বাস লড়াই পেরিয়ে ইংল্যান্ড এখন শেষ চারের স্বপ্ন দেখছে। তবে টমাস টুখেলের দলের সেই স্বপ্ন পূরণের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে নরওয়ে। বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের কঠিন পরীক্ষা নেবেন আরলিং হালান্ড!

মায়ামিতে শনিবারের এই লড়াইয়ে নরওয়ের মূল ভরসা হালান্ড। জাতীয় দলের জার্সিতে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা ম্যানচেস্টার সিটির এই স্ট্রাইকার গত ১৪ প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে করেছেন ২৭ গোল। চলতি বিশ্বকাপের চার ম্যাচেই গোল করেছেন তিনি। কোয়ার্টার ফাইনালেও গোল পেলে বিশ্বকাপে নিজের প্রথম পাঁচ ম্যাচেই গোল করার বিরল কীর্তি গড়বেন তিনি।

ইংল্যান্ড মিডফিল্ডার মরগান রজার্স সংবাদ সম্মেলনে মজার ছলেই বলেছিলেন, 'হালান্ডকে কি কখনও কেউ পুরোপুরি থামাতে পেরেছে? আমার তো মনে হয় না। তবুও আমরা চেষ্টা করব।'

হালান্ডকে নিয়ে ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হলো, তিনি ম্যাচের বড় সময়জুড়ে লাইম লাইটে না থাকলেও, হঠাৎ ম্যাচের চিত্র বদলে দিতে পারেন। বিশ্বকাপে প্রতি ৯০ মিনিটে তার গড় টাচ মাত্র ২৪.৮, যা নিয়মিত খেলোয়াড়দের মধ্যে তুলনামূলক অনেকটাই কম। অথচ সাত গোল নিয়ে তিনি গোলদাতাদের তালিকায় লিওনেল মেসির ঠিক পরেই আছেন।

তবে নরওয়ের আক্রমণের প্রাণ শুধু হালান্ড নন, আছেন মার্টিন ওডেগার্ডও। আর্সেনালের এই মিডফিল্ডার প্রথম তিন ম্যাচেই অ্যাসিস্ট করেছেন। প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভাঙা পাস এবং আক্রমণ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তিনি নরওয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। তাই হালান্ডকে সরাসরি থামানোর চেয়ে ওডেগার্ডকে নিয়ন্ত্রণে রাখাই ইংল্যান্ডের জন্য বেশি কার্যকর হতে পারে।

তবে নরওয়ের রক্ষণভাগ খুব একটা নির্ভরযোগ্য নয়। বিশ্বকাপে পাঁচ ম্যাচে তারা ১২ গোল করলেও হজম করেছে ৯টি। টুর্নামেন্টজুড়ে তাদের ডান প্রান্ত দিয়ে আসা ক্রস থেকে একাধিক গোল হজম করতে হয়েছে। ইংল্যান্ডের আক্রমণভাগে অ্যান্থনি গর্ডনের মতো উইঙ্গার থাকায় টুখেল এই দুর্বলতাকে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা করতে পারেন।

আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে মায়ামির আবহাওয়া। ম্যাচ শুরুর সময় তাপমাত্রা ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি থাকার কথা, তবে আর্দ্রতার কারণে অনুভূত তাপমাত্রা ৪৩ ডিগ্রি পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে টুখেলের উচ্চ মাত্রার প্রেসিং ফুটবল কতটা কার্যকর থাকবে, সেটিও দেখার বিষয়।

এক্ষেত্রে নরওয়ে কিছুটা ভিন্ন ধর্মী। গোলরক্ষক ওরিয়ান নিয়ল্যান্ডের দীর্ঘ পাস কিংবা আলেকজান্ডার সোরলথকে লক্ষ্য করে উড়ে যাওয়া বল তাদের আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ফলে হালান্ড-সোরলথদের সঙ্গে হাওয়ায় বল দখলের লড়াইয়ে জুড বেলিংহাম, ডেকলান রাইস ও এলিয়ট অ্যান্ডারসনদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।

অভিজ্ঞতার বিচারে ইংল্যান্ড অনেক এগিয়ে। ২০১৮ বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল, ইউরোর দুটি ফাইনাল এবং একাধিক নকআউট ম্যাচের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাদের খেলোয়াড়দের। অন্যদিকে নরওয়ে প্রথমবারের মতো কোনো বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের কোয়ার্টার ফাইনালে খেলছে।

ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ডের জন্য ম্যাচটি হতে যাচ্ছে আরেকটি মাইলফলক। মাঠে নামলে তিনি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের হয়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ড গড়বেন।

অভিজ্ঞতা, সামর্থ্য এবং ইতিহাস ইংল্যান্ডের পক্ষে কথা বললেও, হালান্ড ও ওডেগার্ডের নরওয়ে যে কোনো মুহূর্তে ম্যাচের গল্প বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। তাই শেষ চারের টিকিটের লড়াইয়ে ইংল্যান্ডের সামনে অপেক্ষা করছে তাদের বিশ্বকাপ যাত্রার সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ

জনপ্রিয়

নামাজের সময়সূচি

ওয়াক্ত সময়সূচি
ফজর ৩:৪৯ - ৫:১১ ভোর
যোহর ১২:০৩ - ৪:৩৩ দুপুর
আছর ৪:৪৩ - ৬:৪৪ বিকেল
মাগরিব ৬:৪৯ - ৮:১২ সন্ধ্যা
এশা ৮:১৭ - ৩:৪৪ রাত

শনিবার ১১ জুলাই ২০২৬