শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩


ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাতের ছায়ায় কেন বারবার আলোচনায় মেসি

খেলা ডেস্ক

প্রকাশিত:১১ জুলাই ২০২৬, ১৮:১৩

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

ফুটবল মাঠে পায়ের জাদুতে কোটি ভক্তকে মুগ্ধ করেছেন লিওনেল মেসি। রেকর্ড, ট্রফি আর অসাধারণ পারফরম্যান্সে তিনি নিজেকে নিয়ে গেছেন ইতিহাসের সেরাদের কাতারে। তবে মাঠের বাইরের জীবনেও বারবার আলোচনায় এসেছেন এই আর্জেন্টাইন মহাতারকা. বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি, ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন ইস্যুতে তার নাম জড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন সময়ে।

৩৯ বছর বয়সী মেসি বরাবরই রাজনৈতিক বিতর্ক এড়িয়ে চলেছেন। নিজেকে একজন ফুটবলার হিসেবেই তুলে ধরেছেন তিনি। কিন্তু তার কিছু সফর, মানবিক কর্মকাণ্ড ও বাণিজ্যিক সম্পর্ককে ঘিরে বিভিন্ন পক্ষ নিজেদের মতো করে ব্যাখ্যা দিয়েছে।

বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে আবারও সামনে এসেছে মেসিকে ঘিরে এসব পুরোনো ঘটনা। ইসরায়েলবিরোধী কিছু গোষ্ঠী তার অতীত কর্মকাণ্ড তুলে ধরে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে অবস্থানের আহ্বান জানিয়েছে। অন্যদিকে, অনেক ইসরায়েলি সমর্থক মেসি ও আর্জেন্টিনার প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেছেন।

মেসির সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্কের আলোচনার শুরু হয় ২০১১ সালে। ওই বছর আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনস আইরেসে ১৯৯৪ সালের এএমআইএ ইহুদি কমিউনিটি সেন্টারে বোমা হামলায় নিহতদের স্মরণে আয়োজিত কর্মসূচিতে অংশ নেন তিনি এবং দেশটির ইহুদি সম্প্রদায়ের প্রতি সমর্থন জানান।

এরপর ২০১৩ সালে ইসরায়েলে অনুষ্ঠিত মাকাবিয়াহ গেমসে অংশ নিতে যাওয়া আর্জেন্টিনার প্রতিনিধিদলকে শুভেচ্ছা বার্তা পাঠান মেসি। একই বছর বার্সেলোনার একটি শান্তি সফরের অংশ হিসেবে তিনি জেরুজালেমের ওয়েস্টার্ন ওয়াল পরিদর্শন করেন। ওই সফরে ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনি শিশুদের নিয়ে ফুটবল কার্যক্রম আয়োজন করা হয়েছিল।

২০১৪ সালে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দিতে পোপ ফ্রান্সিসের উদ্যোগে রোমে একটি বিশেষ ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। চোটের কারণে মেসি খেলতে না পারলেও এই উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন তিনি।

তবে ২০১৬ সালে মিসরের একটি দাতব্য উদ্যোগে নিজের ব্যবহৃত বুট উপহার দেওয়ার পর সমালোচনার মুখে পড়েন মেসি। কিছু মিসরীয় কর্মকর্তা তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন এবং ইসরায়েল সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয় সামনে আনেন।

২০১৮ সালে ইসরায়েলের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার একটি প্রীতি ম্যাচ ঘিরে বড় ধরনের বিতর্ক তৈরি হয়। ফিলিস্তিনি সমর্থকদের চাপ, বিক্ষোভ এবং খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি বাতিল করা হয়।

এরপর ২০১৯ সালে তেল আবিবে উরুগুয়ের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলতে নামে আর্জেন্টিনা। প্রতিবাদ সত্ত্বেও অনুষ্ঠিত ওই ম্যাচে গোলও করেন মেসি। স্টেডিয়ামে উপস্থিত ছিলেন তৎকালীন ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট রেউভেন রিভলিন।

ফুটবলের বাইরেও ইসরায়েলি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মেসির বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। ২০১৭ সালে তিনি তেল আবিবভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান সিরিন ল্যাবসের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হন। পরে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের সহায়তাকারী প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অরক্যামের সঙ্গেও কাজ করেন।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার সময় মেসির নাম একটি মানবিক ঘটনার কারণে আলোচনায় আসে। ইসরায়েলি এক বৃদ্ধা দাবি করেন, হামলাকারীর সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি মেসির নাম উল্লেখ করে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেছিলেন।

সম্প্রতি বিশ্বকাপের একটি ম্যাচে বিতর্কিত পেনাল্টি সিদ্ধান্ত নিয়েও মেসিকে ঘিরে নতুন করে মন্তব্য শুরু হয়। কেউ কেউ তার বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ তুলেছেন, আবার কেউ এসব মন্তব্যকে ভিত্তিহীন ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে দেখছেন।

এদিকে, ২০২০ সালে ওয়ার্ল্ড জায়নিস্ট অর্গানাইজেশনের একটি হিব্রু শিক্ষামূলক ভিডিওতেও মেসির নাম নিয়ে শব্দের খেলা করা হয়। সেখানে মেসির নামকে উৎসবের সঙ্গে মিলিয়ে একটি প্রচারণামূলক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়।

সব মিলিয়ে, মেসি নিজে রাজনৈতিক অবস্থান থেকে দূরে থাকলেও তার জনপ্রিয়তা ও আন্তর্জাতিক পরিচিতির কারণে বিভিন্ন সময় তাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা আলোচনা। বিশ্বকাপের মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি তাকে ঘিরে এই রাজনৈতিক বিতর্কও এখন ফুটবল বিশ্বের আলোচনার অংশ হয়ে উঠেছে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ

জনপ্রিয়

নামাজের সময়সূচি

ওয়াক্ত সময়সূচি
ফজর ৩:৪৯ - ৫:১১ ভোর
যোহর ১২:০৩ - ৪:৩৩ দুপুর
আছর ৪:৪৩ - ৬:৪৪ বিকেল
মাগরিব ৬:৪৯ - ৮:১২ সন্ধ্যা
এশা ৮:১৭ - ৩:৪৪ রাত

শনিবার ১১ জুলাই ২০২৬