বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩


আজ নায়ক হবেন কে?

ফাইনালের টিকিট কি তবে গোলকিপারদের গ্লাভসেই লেখা?

খেলা ডেস্ক

প্রকাশিত:১৫ জুলাই ২০২৬, ১৯:০৫

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

বিশ্বকাপের মহাদ্বৈরথে মুখোমুখি দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা। আজ রাতে আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামের মহারণে ফুটবলপ্রেমীদের চোখ স্বাভাবিকভাবেই থাকবে দুই দলের আক্রমণভাগের তারকাদের ওপর। তবে হাই-ভোল্টেজ এই ম্যাচটির ভাগ্য গড়ে দিতে পারেন গোলপোস্টের নিচের দুই অতন্দ্র প্রহরী। ইংল্যান্ডের জর্ডান পিকফোর্ড বনাম আর্জেন্টিনার এমিলিয়ানো মার্টিনেজ, দুই গোলরক্ষকের এই দ্বৈরথই হয়ে উঠতে পারে ম্যাচের আসল নিয়তি।

চলমান বিশ্বকাপে গোল পোস্টের নিচে দারুণ দক্ষতায় আলাদাভাবে নজর কেড়েছেন বেশ কয়েকজন। এর মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে নেমেই চমকে দেওয়া কেপভার্দের ভোজিনহা। রাতারাতি তারকা বনে গেছেন চল্লিশোর্ধ্ব বয়সের এই গোলরক্ষক। এ ছাড়া মরক্কোর অভিজ্ঞ গোলকিপার ইয়াছিন বুনো কিংবা স্পেনের উনাই সিমনরা নিজেদের দক্ষতায় ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দিয়েছেন। আজকের হাই-ভোল্টেজ দ্বিতীয় সেমিতেও আলাদাভাবে চোখ থাকবে দুই দলের দুই গোলকিপারের ওপর।

বিশ্বকাপে ১৮টি ম্যাচ খেলে এরই মধ্যে ইংল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলার রেকর্ড গড়ে ফেলেছেন ৩২ বছর বয়সী জর্ডান পিকফোর্ড। তবে পারফরম্যান্স নিয়ে খুব একটা স্বস্তিতে নেই অভিজ্ঞ এই গোলকিপার। নকআউট পর্বে তার হজম করা দুটি গোল নিয়ে সমালোচনা আছে। ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ব্রায়ান সিপেঙ্গার শট ঠেকাতে না পারা কিংবা নরওয়ের বিপক্ষে আন্দ্রেয়াসের ক্রসের ভুলে গোল হজম, সব মিলিয়ে খুব একটা স্বস্তিতে নেই তিনি। আজ ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় পরীক্ষার মুখোমুখি পিকফোর্ড।

অন্যদিকে, ৩৩ বছর বয়সী এমিলিয়ানো মার্টিনেজের উত্থান অনেকটা রূপকথার মতো। ধারে বিভিন্ন ক্লাবে খেলে বেড়ানো মার্টিনেজ এখন আর্জেন্টিনার অন্যতম ভরসার নাম। পরপর দুটি কোপা আমেরিকা ও ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ জয়ের পেছনে তার অবদান অনেক। আগের আসরে টাইব্রেকারে ২৪টি পেনাল্টির মধ্যে ১০টি সেভ করে তিনি আর্জেন্টিনার জাতীয় নায়কে পরিণত হয়েছিলেন। মাঠে তার স্লেজিং আর মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ প্রতিপক্ষকে ভড়কে দেয়।

চলতি বিশ্বকাপে দুই কিপারের কেউই সেরা ফর্মে নেই। পরিসংখ্যান বলছে, পিকফোর্ডের যেখানে ৩.৫ এক্সপেক্টেড গোল হজম করার কথা ছিল, সেখানে তিনি হজম করেছেন ৬টি গোল। অন্যদিকে মার্টিনেজও সমান ৬টি গোল খেলেও তার ক্ষেত্রে এক্সপেক্টেড ছিল ৪.৫; যার অর্থ দাঁড়ায়—এই টুর্নামেন্টে দুজনই তাদের প্রত্যাশিত মানের চেয়ে খারাপ পারফর্ম করেছেন।
অনেকের মতেই মার্টিনেজ পিকফোর্ডের চেয়ে অনেক এগিয়ে, তবে বড় ম্যাচে পিকফোর্ডের রেকর্ডও একেবারে খারাপ নয়। ২০১৮ বিশ্বকাপে কলম্বিয়ার বিপক্ষে টাইব্রেকারে কার্লোস বাক্কার শট ঠেকিয়ে ইংল্যান্ডকে জেতানো কিংবা ইউরো ২০২০-এর ফাইনালে ইতালির বিপক্ষে হারলেও বেলোত্তি ও জর্জিনহোর পেনাল্টি সেভ করার কীর্তি রয়েছে তার। চলতি বিশ্বকাপেও মেক্সিকোর বিপক্ষে দুটি নিশ্চিত গোল ঠেকিয়ে ইংলিশদের বাঁচিয়েছিলেন তিনি।

তবে দলের কার্যকর মুহূর্তে মার্টিনেজের তুলনা মেলা ভার। কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ের একেবারে শেষ সেকেন্ডে ফ্রান্সের কোলো মুয়ানির সেই অবিশ্বাস্য শট বাঁ পা দিয়ে ঠেকিয়ে আর্জেন্টিনাকে বাঁচিয়েছিলেন তিনি। এরপর টাইব্রেকারে কিংসলে কোমান ও শুয়ামেনিকে রুখে দিয়ে দলকে এনে দেন বিশ্বকাপ।

পরিসংখ্যান কী বলছে?
চলতি বিশ্বকাপে অবশ্য দুই কিপারের কেউই নিজেদের সেরা ফর্মে নেই। পরিসংখ্যান বলছে, পিকফোর্ডের যেখানে ৩.৫ এক্সপেক্টেড গোল হজম করার কথা ছিল, সেখানে তিনি হজম করেছেন ৬টি গোল। অন্যদিকে মার্টিনেজও সমান ৬টি গোল খেলেও তার ক্ষেত্রে এক্সপেক্টেড গোল ছিল ৪.৫; যার অর্থ দাঁড়ায়—এই টুর্নামেন্টে দুজনই তাদের প্রত্যাশিত মানের চেয়ে খারাপ পারফর্ম করেছেন।

এবারের বিশ্বকাপে এভারটনের এই প্রধান ভরসা (পিকফোর্ড) গোলমুখে মার্টিনেজের (১৪টি) চেয়ে বেশি শটের (১৮টি) মুখোমুখি হয়েছেন। তবে ফুটবল পরিসংখ্যানভিত্তিক প্রতিষ্ঠান 'অপ্টা'র মতে, পিকফোর্ডের নামের পাশে একটি ভুলও রয়েছে যার কারণে দল সরাসরি গোল খেয়েছে। আজ সেমিফাইনালের মতো বড় ম্যাচে এমন কোনো ভুলের পুনরাবৃত্তি তিনি কোনোভাবেই করতে চাইবেন না।

উভয় গোলরক্ষকই মাঠে তাদের চড়া মেজাজ ও আগ্রাসী মনোভাব দেখাতে দ্বিধা করেন না। তবে পিকফোর্ডকে যেখানে মাঝেমধ্যে কিছুটা অস্থির বা খামখেয়ালী মনে হয়, সেখানে মার্টিনেজের ক্ষেত্রে দেখা যায় যে বড় ম্যাচ এবং অতিগুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোতে নিজের আবেগ প্রকাশ করার মাধ্যমে তার পারফরম্যান্সের ধার আরও বেড়ে যায়।

অবশ্য ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে এই দুজনের পারফরম্যান্সে খুব একটা তফাৎ নেই। অ্যাস্টন ভিলার ১ নম্বর গোলরক্ষক এমিলিয়ানোর তুলনায় তুলনামূলক দুর্বল রক্ষণভাগের কারণে পিকফোর্ডকে স্বাভাবিকভাবেই বেশি শটের মুখোমুখি হতে হয়েছে। এরপরও গত মৌসুমে তিনি ১১টি ম্যাচে কোনো গোল না খেয়ে পোস্ট অক্ষত (ক্লিন শিট) রেখেছিলেন এবং তার সেভ করার হার ছিল ৬৬.৬৭ শতাংশ।

অন্যদিকে, নিষেধাজ্ঞা এবং ইনজুরির কারণে মার্টিনেজ গত মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগের ৬টি ম্যাচ মিস করেছিলেন। তারপরও পিকফোর্ডের চেয়ে মাত্র ৫টি কম—অর্থাৎ মোট ৯৫টি সেভ করেছিলেন তিনি। ইতিহাস বলে, বিশ্বকাপ জিততে হলে গোলকিপারদেরও অতিমানবীয় কিছু করে দেখাতে হয়। ১৯৬৬ সালের পর প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখা ইংল্যান্ডের জন্য আজ পিকফোর্ডকে দিতে হবে সেরা পরীক্ষা। অন্যদিকে, আরও একবার দলের ত্রাতা হতে চাইবেন ‘দিবু’ মার্টিনেজ। দিনটা কার হয় শেষ পর্যন্ত, হয়তো সময়ই বলে দেবে।

সম্পর্কিত বিষয়:

আরো পড়ুন

সর্বশেষ

জনপ্রিয়

নামাজের সময়সূচি

ওয়াক্ত সময়সূচি
ফজর ৩:৫৪ - ৫:১৫ ভোর
যোহর ১২:০৪ - ৪:৩৪ দুপুর
আছর ৪:৪৪ - ৬:৪৩ বিকেল
মাগরিব ৬:৪৮ - ৮:০৯ সন্ধ্যা
এশা ৮:১৪ - ৩:৪৯ রাত

বুধবার ১৫ জুলাই ২০২৬