রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩
ফাইল ছবি
ঘরে-বাইরে তুমুল সমালোচনার মুখে পড়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট দল। ইংল্যান্ডের মাটিতে হেডিংলি ও লর্ডসে টানা দুই টেস্ট হারের মাধ্যমে সিরিজ হাতছাড়ায় করায় তারা এমনিতেই ব্যাকফুটে ছিল। বিপত্তিটা বাড়ে তৃতীয় ও শেষ টেস্টের আগে স্কোয়াড থেকে সাত ক্রিকেটারকে বাদ এবং দুই কোচ ছাঁটাই করার ঘটনায়। যদিও পিসিবির এমন সিদ্ধান্তে অবাক হননি দেশটির কিংবদন্তি পেসার শোয়েব আখতার। তার মতে, ‘ভেন্টিলেটরে’ থাকা পাকিস্তান দলের বেঁচে ফিরতে ২ বছর লাগবে!
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লর্ডসে দ্বিতীয় টেস্টে ১৯৪ রানে হারের আগে হেডিংলিতে প্রথম টেস্টে ইনিংস ও ১০৩ রানে হেরেছিল পাকিস্তান। এজবাস্টনে তৃতীয় টেস্ট শুরু হবে ৯ সেপ্টেম্বর। এর আগে বড় ধরনের পরিবর্তনের পথে হাঁটে পিসিবি। স্কোয়াড থেকে সাত ক্রিকেটারকে বাদ দিয়ে তাদের পরিবর্তে যাদের ডাকা হয়েছে, এর মধ্যে পাঁচজনই অভিষেকের অপেক্ষায়।
একইসঙ্গে প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ ও সহকারী কোচ উমর গুলকেও সরিয়ে দেওয়া হয়। এসব দেখে মোটেও অবাক হননি শোয়েব আখতার। ‘আউটসাইড এজ’ অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের সাবেক পেসার বলেছেন, ‘পিসিবি নিজেই এই ক্রিকেটারদের নিয়ে খুব হতাশ। এই পাকিস্তান স্কোয়াড থেকে তারা আর কিছুই প্রত্যাশা করছে না। পরিকল্পনা হলো এই দলটিকে সরিয়ে তরুণ ও নতুন ক্রিকেটারদের নিয়ে আসা, যারা শুধু পাকিস্তানের হয়ে খেলতে চায়। তারা এখন ভবিষ্যতের দিকে তাকাচ্ছে এবং সঠিকভাবেই কাজ করছে।’
পরিবর্তনের বহমান এই হাওয়ায় অবশ্য তিন ক্রিকেটারকে বাদ না দেওয়ার আহবান রাওয়ালপিন্ডি এক্সপ্রেসের, ‘এই পরিবর্তনের সময়ে আমি শুধু চাই শাহিন শাহ আফ্রিদি, নাসিম শাহ ও হারিস রউফের ক্যারিয়ার যেন নষ্ট না হয়। তাদের সামনে এখনও অনেক ক্রিকেট বাকি।’ ইংল্যান্ডে সফররত পাকিস্তান দলের কাছ থেকে পিসিবির কী প্রত্যাশা, তা জানতে বোর্ডের এক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছিলেন শোয়েব আখতার। জবাবে ওই কর্মকর্তা বলেছেন, ‘কিছুই না। আমরা যে পরবর্তী প্রজন্মের ক্রিকেটারদের বড় মঞ্চের জন্য প্রস্তুত করছি, তাদের কাছ থেকে প্রত্যাশা রয়েছে।’
আখতারের ভাষ্যমতে, ওই কর্মকর্তা তাকে আরও বলেছেন, পাকিস্তান ক্রিকেট এখন ‘ভেন্টিলেটরে’ আছে এবং এটিকে পুনরুজ্জীবিত করতে প্রায় দুই বছর সময় লাগবে। দ্বিতীয় টেস্ট চলাকালে লাহোরে ছিলেন আখতার। তিনি পাকিস্তানের ন্যাশনাল ক্রিকেট একাডেমি (এনসিএ) পরিদর্শন করে সেখানে অবকাঠামো উন্নয়নে চলমান কাজও দেখেছেন। ২৬ বছর পর এখন একাডেমিতে কাজ হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
পাকিস্তান দলকে যখন ‘ছন্নছাড়া’ মনে হচ্ছে কি না, এমন প্রশ্নে আখতার কিছুটা ব্যঙ্গ করে বলেন, ‘এতে অবাক হওয়ার কী আছে? আপনারা কি এটা প্রত্যাশা করেননি?’ এ ছাড়া পাকিস্তান দল লর্ডসে কোনো লড়াইয়ের মানসিকতা দেখাতে না পারা নিয়ে আখতার বলেন, ‘আমাদের মধ্যে লড়াই করার শক্তিটাই ছিল না।’