সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
ফাইল ছবি
অ্যাপলের ভার্চ্যুয়াল সহকারী সিরিতে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। নতুন সংস্করণে চ্যাট স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে ফেলার সুবিধা যুক্ত হতে পারে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সিরিকে আরও ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষাকেন্দ্রিক হিসেবে উপস্থাপন করতে চায় অ্যাপল।
আগামী জুনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া অ্যাপলের বার্ষিক ডেভেলপার সম্মেলন ডব্লিউডব্লিউডিসিতে নতুন সিরি উন্মোচনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রযুক্তিবিষয়ক সাংবাদিক মার্ক গারম্যানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবারের সিরিতে গোপনীয়তা বা প্রাইভেসিকে বড় গুরুত্ব দেবে অ্যাপল।
নতুন এই সিরি সংস্করণকে ঘিরে প্রযুক্তি বিশ্বে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। কারণ সাম্প্রতিক সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দৌড়ে অ্যাপলকে কিছুটা পিছিয়ে পড়া প্রতিষ্ঠান হিসেবেই দেখা হচ্ছিল। ওপেনএআইয়ের চ্যাটজিপিটি, গুগলের জেমিনি বা মাইক্রোসফটের এআই সেবাগুলোর তুলনায় অ্যাপলের উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক কম দৃশ্যমান। তাই নতুন সিরিকে অ্যাপলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, অ্যাপল প্রথমবারের মতো আলাদা একটি সিরি অ্যাপ চালু করতে পারে। এটি গুগলের জেমিনি প্রযুক্তিচালিত হতে পারে এবং ব্যবহারকারীরা চ্যাটবটের মতো অভিজ্ঞতা পাবেন। অর্থাৎ ব্যবহারকারীরা প্রশ্ন করলে সিরি আরও স্বাভাবিক ভাষায় উত্তর দিতে পারবে এবং দীর্ঘ কথোপকথন চালিয়ে যেতে সক্ষম হবে।
তবে অ্যাপল চেষ্টা করছে প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় নিজেদের আলাদা হিসেবে তুলে ধরতে। বিশেষ করে ব্যবহারকারীর তথ্য সুরক্ষার বিষয়টি সামনে আনতে চায় প্রতিষ্ঠানটি।
নতুন সিরিতে এমন একটি সুবিধা থাকতে পারে যেখানে ব্যবহারকারী চাইলে নির্দিষ্ট সময় পর চ্যাট স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে যাবে। এই ফিচার অনেকটা আইফোনের মেসেজেস অ্যাপের মতো কাজ করবে। ব্যবহারকারী ৩০ দিন, এক বছর বা অনির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত চ্যাট সংরক্ষণের অপশন বেছে নিতে পারবেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের ফিচার ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা কমাতে পারে। কারণ বর্তমানে অনেক এআই সেবাই ব্যবহারকারীর কথোপকথন দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ করে থাকে। এসব তথ্য ভবিষ্যতে এআই মডেল উন্নয়নের কাজেও ব্যবহার করা হয়।
তবে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, অ্যাপলের এই ‘প্রাইভেসি-কেন্দ্রিক’ অবস্থান আংশিকভাবে কৌশলগতও হতে পারে। অর্থাৎ প্রতিদ্বন্দ্বী এআই সেবার তুলনায় সিরির সীমাবদ্ধতা বা দুর্বলতাকে আড়াল করতেও প্রতিষ্ঠানটি গোপনীয়তার বিষয়টি বেশি গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরতে পারে।
আরেকটি বিষয়ও আলোচনায় এসেছে। যদিও অ্যাপল ব্যবহারকারীর তথ্য সুরক্ষার কথা বলছে। তবুও নতুন সিরির কিছু নিরাপত্তা ও এআই অবকাঠামো গুগলের প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করতে পারে। ফলে ব্যবহারকারীর তথ্য ব্যবস্থাপনায় গুগলের ভূমিকা কতটা থাকবে সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠছে।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এখন এআই প্রতিযোগিতায় শুধু কে বেশি স্মার্ট উত্তর দিতে পারে সেটিই বড় বিষয় নয়। ব্যবহারকারীর তথ্য কতটা নিরাপদ থাকবে সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। আর সেই জায়গাতেই অ্যাপল নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করতে চাইছে।