মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩


আইনমন্ত্রী

ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে চাইলে আমাদের কঠোরতা দেখাতে হবে

বাগেরহাট থেকে

প্রকাশিত:১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭:৪২

ছবি ‍: সংগৃহীত

ছবি ‍: সংগৃহীত

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, জামিন দেওয়া না দেওয়া আদালতের ব্যাপার। সেখানে যদি ন্যায়বিচারকে প্রভাবিত করে কোনোভাবে জামিন নেওয়া বা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়, কিংবা জামিন ঠেকানোর চেষ্টা করা হয়, তাহলে তার বিরুদ্ধে আপনারা কঠোর ব্যবস্থা নেবেন। ন্যায়বিচারের সুষ্ঠু বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে চাইলে আমাদের মনে রাখতে হবে, আমাদের কঠোরতা দেখাতে হবে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাগেরহাট জেলার আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়ন বিষয়ে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, গত ১৭ বছরে বিএনপি-জামায়াতকে লক্ষ্য করে মানুষকে ধরে নিয়ে গিয়ে বিনা বিচারে হত্যা করা হয়েছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘ক্রসফায়ার’। গুম করা হয়েছে। চার হাজারের বেশি বিএনপির নেতাকর্মীকে গুম ও ক্রসফায়ার দেওয়া হয়েছিল। ১৬-১৭ বছরে প্রায় ৭০০ বিএনপির নেতাকর্মীকে গুম করা হয়েছে সেই সময়। সেই সময়ে অসংখ্য জামায়াতের নেতাকর্মীকে গুম করা হয়েছে, খুন করা হয়েছে শুধু জামায়াত করার কারণে কিংবা বিএনপি করার কারণে। ৬০ লাখের বেশি মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও গায়েবি মামলা করা হয়েছিল। সেই সব মামলার ৯৯ শতাংশ ক্ষেত্রে বাদী হয়েছিলেন পুলিশ।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আমরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বলছি, যার বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে, তাকে আইনের আওতায় আনবেন। তিনি যত শক্তিশালীই হোন না কেন, এমনকি আমি যে রাজনৈতিক দল থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য, সেই বিএনপির কোনো শক্তিশালী নেতাও যদি তাকে পৃষ্ঠপোষকতা করার চেষ্টা করেন, তার ব্যাপারেও আপনারা জিরো টলারেন্স দেখাবেন। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। এখানে কোনো পক্ষপাত নেই। অভিযোগ আছে, আপনি তা উপেক্ষা করবেন, সেটা হবে না। আইনের হাতে সোপর্দ করবেন। আইন আইনের মতো এগিয়ে যাবে। সে যদি আদালত থেকে জামিন পায়, জামিন পাওয়া তার অধিকার। কিন্তু পুলিশ তাকে বাইরে ঘুরে বেড়াতে দেবে, খুন করে বেড়াবে, আর আপনার সামনে জনগণের মুখে এই কথা হবে যে, খুন করলেও পুলিশ তাকে ধরতে সাহস পাচ্ছে না, এটা হতে পারে না।

আইনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ পুলিশের হাত এখনো অতটা দুর্বল হয়নি। সুতরাং আপনারা আপনাদের কাজ নির্ভীকভাবে করে যাবেন। জনগণের স্বার্থে যদি দেখেন, মাদক কারবারের সঙ্গে বা মাদকের গডফাদার হিসেবে সরকারদলীয় কিংবা বিরোধী কোনো নেতার সম্পৃক্ততা আছে, তাকে ধরতেও যেন আপনার হাত না কাঁপে। আমি আমার এলাকার উদাহরণ বারবার দিই। এই কারণে যে, গত সপ্তাহে আমার একটি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসে। সে মাদক সেবন করে এবং মাদক কারবারের সঙ্গে সম্পৃক্ত এমন অভিযোগ পুলিশ আমাকে জানানোর পর আমি বললাম, ‘গ্রেপ্তার করেন। আমাকে জিজ্ঞাসা করার কী প্রয়োজন।’ সে যদি বিএনপি না করতো, অন্য কোনো রাজনৈতিক দল করতো, তাহলে তার ক্ষেত্রে যেটা করতেন, এক্ষেত্রেও সেটাই করবেন। তাকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে এসেছে। সে আমার নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি নিবেদিতভাবে যারা কাজ করেছিল, তাদের একজন ছিল।

তিনি বলেন, আমার কাছে একজন রাজনৈতিক কর্মী, সত্যিকারের রাজনৈতিক কর্মী হতে গেলে তার প্রথম শর্ত হলো, তাকে নৈতিকভাবে স্বচ্ছ হতে হবে। জনগণের কাছে যখন তাকে আমি পাঠাবো, জনগণ যেন বুঝতে পারে, সে মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলতে এসেছে। অথচ সে নিজেই মাদকমুক্ত নয়। মাদক সেবনের পরীক্ষায় তার ফলাফল পজিটিভ ধরা পড়েছে। দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে এক বছরের সাজা দেওয়া হয়েছে। সে বিএনপির একটি ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক। আমরা সেখানে কোনো হস্তক্ষেপ করি না। এখানে মাদকের সঙ্গে জড়িত বা সম্পৃক্ত যে বা যারাই থাকুক, সবার ক্ষেত্রেই জিরো টলারেন্স। যত বড় নেতাই হোক, সেটা আমরা দেখব। এটা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন।

আইনমন্ত্রী বলেন, ধরেন বাগেরহাট জেলায় ১০ জন লোক মাদক বিক্রি করে। আমি যদি এভাবে ধরি যে, এই ১০ জনই বিএনপি করে, এই ১০ জন যদি মাদক বিক্রি করে বড়লোক হয়, তাহলে আমার দলের কী লাভ হবে? এই ১০ জনের কারণে বাগেরহাট জেলার ১০ হাজার মানুষ আমাকে ঘৃণা করবে। এই ১০ জনের কারণে বাগেরহাট জেলার ১০ হাজার মানুষ বিএনপিকে অপছন্দ করবে। আমরা রাজনৈতিক দল হিসেবে, সরকার হিসেবে এই ঝুঁকি নেব না। এই মাদক কোনো ব্যবসার অংশ হতে পারে না। আমরা সেই কারণেই বলছি, এখানে আমাদের জিরো টলারেন্স। এটা খুব সুনির্দিষ্টভাবে বলছি, যদি কোনো নেতা এর পেছনে থেকে থাকেন, তাদেরও আমরা সতর্ক করছি। এ বিষয়টি আপনারা খেয়াল রাখবেন।

সম্পর্কিত বিষয়:

আরো পড়ুন

সর্বশেষ

জনপ্রিয়

নামাজের সময়সূচি

ওয়াক্ত সময়সূচি
ফজর ৪:২৯ - ৫:৪০ ভোর
যোহর ১১:৫৪ - ৪:১০ দুপুর
আছর ৪:২০ - ৫:৫৭ বিকেল
মাগরিব ৬:০২ - ৭:১৩ সন্ধ্যা
এশা ৭:১৮ - ৪:২৪ রাত

মঙ্গলবার ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬