মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
ছবি : সংগৃহীত
জাতীয় বাজেটে শিক্ষাখাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় সুশাসন নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সংসদ সদস্য ও পেশাজীবীরা।
আজ (মঙ্গলবার) বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত “শিক্ষাখাতে বরাদ্দ ও জাতীয় উন্নয়ন” শীর্ষক প্রাক-বাজেট সংলাপে বক্তারা এসব দাবি জানান। সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক এ কে এম ওয়ারেসুল করিম।
বক্তারা টেকসই জাতীয় উন্নয়ন নিশ্চিত করতে শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার এবং বরাদ্দ বৃদ্ধির পাশাপাশি জবাবদিহিমূলক ও কার্যকর প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলার দাবি জানান। জাতীয় বাজেটে শিক্ষাখাতে মোট জিডিপির ৪ থেকে ৬ শতাংশ বরাদ্দ নিশ্চিত করারও দাবি জানান তারা।
সংলাপে মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুর রব বলেন, শিক্ষা কাঠামোয় মৌলিক পরিবর্তন ছাড়া দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। শিক্ষাকে জাতীয় উন্নয়নের প্রধান ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করে শিক্ষা নীতি ও শিক্ষা আইন প্রণয়ন করতে হবে। দেশের মেধাবী শিক্ষাবিদরা বিদেশে দক্ষতার স্বাক্ষর রাখলেও দেশে তাদের জন্য উপযুক্ত কর্মপরিবেশ তৈরি করা যাচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে দলীয় বিবেচনায় উপাচার্য নিয়োগের প্রবণতা শিক্ষাব্যবস্থার জন্য উদ্বেগজনক। যোগ্যতা ও পেশাগত মানদণ্ডের পরিবর্তে রাজনৈতিক বিবেচনাকে প্রাধান্য দেওয়ার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান বলেন, বিভিন্ন প্রকল্প ও কার্ডভিত্তিক কর্মসূচির মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় হচ্ছে, অথচ শিক্ষা খাত কাঙ্ক্ষিত গুরুত্ব পাচ্ছে না। তিনি অভিযোগ করেন, বাজেট প্রণয়নে জনগণের প্রত্যাশার যথাযথ প্রতিফলন ঘটে না।
সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মারদিয়া মমতাজ বলেন, সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি ভোকেশনাল শিক্ষাকে অধিক গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি শিক্ষা খাতে বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম ও অপচয়ের অভিযোগ তুলে ধরে শিক্ষকদের জন্য ট্যাব সরবরাহের পরিবর্তে শিক্ষা উপকরণ ও গবেষণা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির আহ্বান জানান। একই সঙ্গে উচ্চশিক্ষায় গবেষণামুখী বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, শিক্ষাকে মৌলিক অধিকার বলা হলেও এর কার্যকর সংজ্ঞা ও বাস্তবায়ন কাঠামো এখনও স্পষ্ট নয়। শিক্ষা বাজেট নিয়ে আলোচনা করার আগে শিক্ষা কাঠামো ও সুশাসনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় সংসদের সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষা বিভাগের আহ্বায়ক অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, অতীতের বহু বাজেটের পর নানা প্রতিশ্রুতি ও আলোচনা হলেও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। তিনি বলেন, কার্যকর বাজেট বাস্তবায়নের জন্য রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে শিক্ষা ব্যবস্থার গুণগত মান বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সংলাপে আরও বক্তব্য দেন আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক এ বি এম ফজলুল করিম, কারিগরি শিক্ষা গবেষক অধ্যাপক সৈয়দ আবদুল আজিজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও ডাকসুর সাবেক কোষাধ্যক্ষ ড. মোশাররফ হোসেন, ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংকের (ইউটিএল) সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বিলাল হোসেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ দিদার আলম মুহসিন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তারেক মুহাম্মদ শামসুল আরেফীন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ, অধ্যাপক ড. মোহসিনা আক্তার, সাভার মডেল কলেজের অধ্যক্ষ তৌহিদ হোসেন, বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক পরিষদের সেক্রেটারি রবিউল ইসলাম, তামীরুল মিল্লাত মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা খলিলুর রহমান মাদানী, কারিগরি শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ড. মোহাম্মদ শাহ আলম মজুমদার, মাধ্যমিক শিক্ষক প্রতিনিধি আবদুর রহিম এবং প্রাথমিক শিক্ষক প্রতিনিধি ড. সাখাওয়াত হোসেন।