বৃহঃস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬, ২৪ বৈশাখ ১৪৩৩
ফাইল ছবি
যুক্তরষ্ট্রের যত শিগগির সম্ভব পূর্ণ যুদ্ধবিরতিতে যেতে এবং অবিলম্বে বাণিয্যিক জাহাজগুলোর জন্য হরমুজ প্রণালিকে খুলে দিতে ইরানকে চাপ দিয়েছে চীন। চীনের রাষ্ট্রয়ত্ব সংবাদমাধ্যম সিনহুয়া এবং ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উভয়েই গতকাল জানিয়েছে এ তথ্য।
চীন ইরানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক মিত্র এবং ইরানের জ্বালানি তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা। গতকাল বেইজিংয়ে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই’র সঙ্গে বৈঠক হয়েছে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির। সেই বৈঠকেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যত শিগগির সম্ভব যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছাতে এবং হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ খুলে দিতে ইরানের প্রতি জরুরি আহ্বান জানান চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
প্রসঙ্গত, পারস্য উপসাগর ও আরব সাগরকে সংযোগকারী ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ হরমুজ প্রণালি একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য জলপথ। বৈশ্বিক চাহিদার এক পঞ্চমাংশ জ্বালানি পণ্য এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর পর হরমুজে অবরোধ জারি করে ইরান, ফলে প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।
এর ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দেশে দেশে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। এদিকে কয়েক দিন আগে ইরানের ইসলামিক প্রজাতন্ত্রী সরকার বলেছে যে এখন থেকে হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং যেসব বিদেশি জাহাজ এই প্রণালি পাড়ি দিতে চায়— তাদের অবশ্যই ইরানের সরকারি কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে এবং টোল দিতে হবে।
ইরানের এই ঘোষণার তীব্র বিরোধিতা করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলো। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, হরমুজ প্রণালী আন্তর্জাতিক জলপথের অন্তর্গত এবং এই প্রণালিতে টোল আরোপ বেআইনি।
গত ৮ এপ্রিল থেকে যুদ্ধবিরতি শুরু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে। এ বিরতির মূল উদ্দেশ্য ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের একটি একটি বিস্তৃত শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর। এই চুক্তি নিয়ে আলোচনার মধ্যেই চীন সফর করলেন আরাগচি।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর বেইজিংয়ের সঙ্গে তিন বার ফোনালাপ হলেও ওয়াং ই’র সঙ্গে সৈয়দ আব্বাস আরাগচির মুখোমুখি বৈঠক হলো এই প্রথমবার।
আপনার মতামত দিন:
(মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।)