শনিবার, ৯ মে ২০২৬, ২৬ বৈশাখ ১৪৩৩
ছবি : সংগৃহীত
শিশুর জন্মের সঙ্গে সঙ্গেই তাকে নিয়ে হাজারো স্বপ্ন সাজান মা-বাবা। কোন স্কুলে পড়াবেন, কীভাবে ভালো মানুষ হিসেবে তাকে গড়ে তুলবেন, কোন পেশায় যুক্ত করাবেন এসব নিয়ে চিন্তার শেষ নেই। এসবের ভিড়ে কি সন্তানকে কখনো ঘরের কাজ শেখানোর কথা মাথায় এসেছে? হয়তো বলবেন, ছোট মানুষ কী আর কাজ করবে? বড় হলে এমনিই শিখবে। তবে সাম্প্রতিক গবেষণায় তথ্য জানলে এই ভাবনায় ছেদ পড়বে নিশ্চিত।
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৫ বছরের দীর্ঘ এক গবেষণা ভিন্ন কথা বলছে। এই গবেষণায় উঠে এসেছে এক চমকপ্রদ তথ্য। চলুন বিস্তারিত জেনে নিই-
১৯৩৮ সালে শুরু হওয়া ‘হার্ভার্ড স্টাডি অব অ্যাডাল্ট ডেভেলপমেন্ট’ বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা। এই গবেষণায় দেখা গেছে, শৈশবে ঘরের কাজ করা শিশুরা ভবিষ্যতে বেশি সফল ও সুখী হয়।
গবেষকদের মতে, ছোটবেলা থেকে যেসব শিশু ঘর পরিষ্কার বা রান্নায় সাহায্য করে, তাদের মধ্যে দায়িত্ববোধ প্রবল হয়। তারা অন্যের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে নিজের কাজ নিজে করতে শেখে।

বিজ্ঞানীদের মতে, ঘরের কাজ শিশুদের মধ্যে ‘সহানুভূতি’ তৈরি করে। এতে তারা বুঝতে শেখে একটি পরিবার বা দল হিসেবে কীভাবে একে অপরকে সাহায্য করতে হয়।
মনোবিজ্ঞানের ভাষায় একে ‘কনশিয়েনশিয়াসনেস’ বলা হয়। এই গুণটি থাকলে শিশু পরবর্তী জীবনে কর্মক্ষেত্রে অনেক বেশি উন্নতি করে এবং যেকোনো সমস্যার দ্রুত সমাধান করতে পারে।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, শুধু কাজ নয়, পরিবারের সঙ্গে ভালো সময় কাটানোও জরুরি। বিশেষ করে ঘুমানোর আগে বা স্কুল থেকে ফেরার পরের সময়টুকু শিশুর মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সন্তানের শুধু মেধার প্রশংসা না করে তার পরিশ্রম ও চেষ্টারও প্রশংসা করুন। এতে তার মধ্যে ‘গ্রোথ মাইন্ডসেট’ তৈরি হবে, যা তাদের ব্যর্থতা কাটিয়ে উঠে নতুন করে লড়তে শেখাবে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, সন্তানকে কেবল বইয়ের পাতায় আটকে রাখবেন না। তাকে ঘরের ছোটখাটো কাজে যুক্ত করুন। ঘর গোছানো, পোশাক ভাঁজ করা, পড়ার টেবিল গোছানো কিংবা খেলনা গুছিয়ে রাখার মতো কাজ করতে দিন। এটিই হতে পারে তার আগামীর সুখী ও সফল জীবনের জন্য শ্রেষ্ঠ বিনিয়োগ।