সোমবার, ১ জুন ২০২৬, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
প্রতীকী ছবি
তিনটি জিনিস এমন রয়েছে, যেদিকে তাকালে আমলনামায় সওয়াব লেখা হয়। তাহলো— কাবা শরিফ, কোরআন শরিফ ও মা-বাবার চেহারা। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর, তার সঙ্গে শরিক কর না এবং মা-বাবার সঙ্গে সদ্ব্যবহার কর (সুরা৪ নিসা, আয়াত : ৩৬)।’
মা-বাবার খেদমত অন্যতম ইবাদত। মিরাজের রাতে নামাজ ও রোজা ফরজ হয় এবং আল্লাহর তরফ থেকে ১৪টি সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। এর মধ্যে প্রথম হলো আল্লাহর সঙ্গে শরিক না করা এবং দ্বিতীয় হলো মা-বাবার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করা (সুরা ইসরা, আয়াত : ২৩)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যখন কোনো সন্তান নিজের মা-বাবার প্রতি অনুগ্রহের নজরে দৃষ্টিপাত করে, আল্লাহ তায়ালা তার প্রতিটি দৃষ্টির বিনিময়ে একটি করে কবুল হজের সওয়াব দান করেন (বায়হাকি)।’
এই ফজিলত সম্পর্কে আশ করা যায় যে সৎ মায়ের ক্ষেত্রেও প্রজোয্য হবে। কারণ, ইসলামে সৎ মা (বাবার স্ত্রী) আর নিজের মায়ের মধ্যে কোনো তফাত নাই। জম্মদাত্রী মায়ের মতোই তিনি সম্মানের অধিকারী। তার সঙ্গেও সদ্ব্যবহার করার করা কর্তব্য।
হজরত আবু উসাঈদ রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আমরা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে বসেছিলাম। এ সময় বনু সালাম গোত্রের এক ব্যক্তি এলো। সে বললো, হে আল্লাহর রাসুল! আমার মা বাবার মৃত্যুর পর কি তাদের সেবা করার কোনো সুযোগ আছে আর?
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হ্যা। মা-বাবার জন্য দোয়া করা, তাদের মাগফিরাত (গুনাহ মাফ) কামনা করা, তাদের কৃত ওয়াদা পালন করা, যে রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়ের সঙ্গে তারা সুসম্পর্ক রক্ষা করতেন, তাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক রক্ষা করা এবং তাদের বন্ধু-বান্ধবের প্রতি ভক্তি শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শন করা। (আবু দাউদ, ইবনে মাজা, ইবনে হাব্বান, আত-তারগীব ওয়াত তারহীব, ১২৬৭)