মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩
ফাইল ছবি
স্কালোনির কথায় আত্মবিশ্বাস আছে, আছে সতর্কতাও। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এখনও শিরোপার অন্যতম দাবিদার, কিন্তু এবারের বিশ্বকাপ যে আগের যেকোনো আসরের চেয়ে অনেক বেশি অনিশ্চিত, সেটিও মনে করিয়ে দিলেন তিনি।
কেপ ভার্দের বিপক্ষে রাউন্ড অব ৩২-এর নাটকীয় জয় পেরিয়ে এখন আর্জেন্টিনার সামনে শেষ ষোলোর বাধা মিশর। তবে ম্যাচের আগের সংবাদ সম্মেলনে শুধু পরের প্রতিপক্ষ নয়, সম্ভাব্য ফাইনাল নিয়েও কথা বলেছেন লিওনেল স্কালোনি। আর সেখানে নিজের পছন্দের প্রতিপক্ষ হিসেবে উল্লেখ করেছেন স্পেনের নাম।
স্পেনকে নিয়ে স্কালোনি বলেন, ‘ফেভারিট তকমা পাওয়ার জন্য একটি দলকে ঠিক কেমন হতে হবে, সেটা আমি জানি না। তবে এটুকু পরিষ্কার, স্পেন টুর্নামেন্টে নিজেদের খেলা পাঁচটি ম্যাচেই ধাপে ধাপে উন্নতি করেছে। প্রতিটি ম্যাচের সঙ্গে তারা আরও শক্তিশালী ও পরিণত হয়েছে।’
তবে স্পেনের প্রশংসা করলেও কাউকে একক ফেবারিট মানতে নারাজ আর্জেন্টিনা কোচ, ‘বিশ্বকাপ খুব জটিল একটি প্রতিযোগিতা। এখানে ভ্রমণক্লান্তি আছে, তীব্র গরম আছে, মাঠের অবস্থা আছে, এমনকি বলের আচরণও সবসময় এক রকম থাকে না। এতগুলো বিষয় প্রভাব ফেলে যে কোনো একটি দলকে পরিষ্কার ফেবারিট বলা কঠিন। এটা সাধারণ কোনো বিশ্বকাপ নয়। এখন পর্যন্ত কোনো পরাশক্তিই অন্যদের থেকে বিশাল ব্যবধানে এগিয়ে যেতে পারেনি।’
এরপরই হাসতে হাসতে নিজের পছন্দের ফাইনালের কথাও বলে ফেলেন স্কালোনি, ‘স্পেনের বিপক্ষে একটি ফাইনাল খেলার জন্য আমি আজই চুক্তিতে সই করতে রাজি। কিন্তু সেই পথটা এখনও অনেক দীর্ঘ। আমাদের দুই দলের সামনেই অনেক বড় বাধা অপেক্ষা করছে।’
এবারের আসরে ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার পরাশক্তিরা প্রত্যাশামতো আধিপত্য দেখাতে পারছে না বলেও মনে করেন স্কালোনি, ‘এই বিশ্বকাপ সবার জন্যই কঠিন হয়ে উঠেছে। সেদিনও ফ্রান্সকে ভয়ঙ্কর শক্তিশালী মনে হচ্ছিল, এখনও তারা তেমনই আছে। কিন্তু প্যারাগুয়ের বিপক্ষে জিততে তাদেরও কঠিন লড়াই করতে হয়েছে। এই টুর্নামেন্টের বাস্তবতা আগের বিশ্বকাপগুলোর চেয়ে ভিন্ন।’
এর কারণ হিসেবে খেলোয়াড়দের ক্লান্তিকেও সামনে এনেছেন তিনি, ‘অনেক ফুটবলার দীর্ঘ মৌসুম শেষে এখানে এসেছে। ক্লাব ফুটবলে অসংখ্য ম্যাচ খেলার ধকল তারা এখন টের পাচ্ছে। সম্ভবত এ কারণেই আমরা মাঠে সেই চিরচেনা ঝলমলে ফুটবল খুব বেশি দেখতে পাচ্ছি না। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে যাদের ফেবারিট ধরা হয়েছিল, তারাও প্রত্যাশামতো খেলতে পারছে না। সত্যি বলতে, এখন পর্যন্ত কোনো দলই পরিপূর্ণ ফুটবল খেলতে পারেনি।’