বৃহঃস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩
ফাইল ছবি
ইউরোপের শ্রেষ্ঠত্ব পুনরুদ্ধারের মিশনে আজ রাতে মাঠে নামছে বার্সেলোনা। নিজেদের মাঠ ক্যাম্প ন্যুতে চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচে কাতালান ক্লাবটির সামনে ডাচ জায়ান্ট ফেইনুর্ড। নতুন মৌসুমে হান্সি ফ্লিকের দল যে ছন্দে এগোচ্ছে, তাতে ইউরোপীয় মঞ্চেও বড় কিছুর প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
২০২৬-২৭ মৌসুমের শুরুটা দুর্দান্ত কেটেছে বার্সেলোনার। এখন পর্যন্ত চার ম্যাচ খেলে প্রতিটিতেই জয় পেয়েছে তারা। এই চার ম্যাচে প্রতিপক্ষের জালে ১৭ বার বল পাঠানোর বিপরীতে গোল হজম করেছে মাত্র দুটি। সর্বশেষ ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে ৫-০ গোলের জয়ও তাদের আক্রমণাত্মক ফুটবলের প্রমাণ দিয়েছে। এবার সেই ধারাবাহিকতা চ্যাম্পিয়নস লিগেও ধরে রাখাই লক্ষ্য।
ফ্লিকও দলের বর্তমান অবস্থায় সন্তুষ্ট। তাঁর মতে, চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা জয়ের মতো সামর্থ্য বার্সেলোনার আছে, তবে সেটি শুধু কাগজে-কলমে নয়, মাঠের পারফরম্যান্সেও দেখাতে হবে। দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং আত্মবিশ্বাস এখন বেশ ভালো বলেও মনে করছেন জার্মান কোচ।
২০১৫ সালের পর আর ইউরোপের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ক্লাব প্রতিযোগিতার ট্রফি ছুঁতে পারেনি বার্সেলোনা। গত দুই আসরে তাদের পথ থেমেছে যথাক্রমে সেমিফাইনাল ও কোয়ার্টার ফাইনালে। ফলে এবার ফ্লিকের সামনে প্রত্যাশাটা আরও বড়। তবে শিরোপার কথা দূরে রেখে আপাতত লিগ পর্ব পেরোনোর কাজটিই প্রথমে সারতে হবে বার্সাকে।
আজকের ম্যাচে বাড়তি আবেগের কারণও আছে। ফেইনুর্ডের কোচ হিসেবে ক্যাম্প ন্যুতে ফিরছেন জিওভানি ফন ব্রঙ্কহোর্স্ট। সাবেক এই ডাচ ফুটবলার বার্সেলোনার হয়ে খেলেছেন এবং ২০০৫-০৬ মৌসুমে ক্লাবটির চ্যাম্পিয়নস লিগজয়ী দলের সদস্য ছিলেন। শৈশবের ক্লাবে দ্বিতীয় মেয়াদে কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এবারই প্রথম বার্সার মাঠে প্রতিপক্ষের ডাগআউটে দাঁড়াবেন তিনি।
তবে মাঠের লড়াইয়ে আবেগের জায়গা খুব বেশি থাকবে না। কারণ বার্সার বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষাই অপেক্ষা করছে ব্রঙ্কহোর্স্টের দলের জন্য। ইরেডিভিসিতে এখনো অপরাজিত ফেইনুর্ড তিনটি জয় ও দুটি ড্র করেছে। বিশেষ করে প্রতিপক্ষের মাঠে তাদের পারফরম্যান্স আশাব্যঞ্জক। এ মৌসুমে বাইরে খেলা তিন ম্যাচেই জয় পেয়েছে তারা, করেছে ৯ গোল এবং হজম করেছে তিনটি।
রিয়াল মাদ্রিদকে যেখানে ইন্টার মিলানের মতো শক্ত প্রতিপক্ষের বিপক্ষে শুরু করতে হচ্ছে, সেখানে বার্সেলোনার সামনে তুলনামূলকভাবে কম শক্তিশালী প্রতিপক্ষ ফেইনুর্ড। তার ওপর ফ্লিকের অধীনে বার্সার আক্রমণভাগ রয়েছে দুর্দান্ত ছন্দে।
দলবদলের বাজারে একজন বিশেষজ্ঞ স্ট্রাইকারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে অনেক আলোচনা হলেও শেষ পর্যন্ত সেই জায়গায় বড় কোনো সংযোজন হয়নি। হুলিয়ান আলভারেজকে দলে ভেড়ানোর চেষ্টাও শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি। কিন্তু মাঠে সেই ঘাটতির প্রভাব এখনো দেখা যাচ্ছে না। রাফিনিয়া, লামিন ইয়ামালদের গতিময় ফুটবল এবং সম্মিলিত আক্রমণই হয়ে উঠেছে বার্সার সবচেয়ে বড় অস্ত্র।
চার ম্যাচে ১৭ গোল করার পাশাপাশি তাদের আক্রমণ যে কতটা কার্যকর, সেটি এক্সপেক্টেড গোলের পরিসংখ্যানেও স্পষ্ট। তিনটি ম্যাচেই বার্সেলোনার এক্সপেক্টেড গোলের সংখ্যা ছিল চার বা তার বেশি। অর্থাৎ সুযোগ তৈরির দিক থেকেও প্রতিপক্ষের চেয়ে তারা অনেক এগিয়ে।
দুই ক্লাবের দীর্ঘ ইউরোপীয় ইতিহাস থাকলেও সরাসরি লড়াইয়ের সংখ্যা খুবই কম। এর আগে ১৯৭৪-৭৫ মৌসুমে ইউরোপিয়ান কাপের দ্বিতীয় রাউন্ডে মুখোমুখি হয়েছিল বার্সেলোনা ও ফেইনুর্ড। দুই লেগের সেই লড়াইয়ে কোনো গোল হজম না করে মোট ৩-০ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল বার্সা।
প্রায় পাঁচ দশক পর আবারও ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় মুখোমুখি হচ্ছে দুই দল। ইতিহাস অবশ্য বার্সার পক্ষে থাকলেও বর্তমান ফেইনুর্ডকে একেবারে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।
বার্সেলোনার দলে চোটের কারণে থাকছেন না ফ্রাঙ্কি ডি ইয়ং ও রুনি বার্দঘজি। ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে রদ্রির সঙ্গে সংঘর্ষে নাকে চোট পাওয়া এরিক গার্সিয়ার খেলাও অনিশ্চিত। শেষ পর্যন্ত মাঠে নামতে পারলে সুরক্ষার জন্য মুখে বিশেষ মাস্ক ব্যবহার করতে হতে পারে তাঁকে।
তারপরও স্কোয়াডের গভীরতা নিয়ে খুব বেশি চিন্তিত হওয়ার কারণ নেই ফ্লিকের। নতুন দলে আসা রদ্রি ও অ্যান্টনি গর্ডনের চ্যাম্পিয়নস লিগে বার্সেলোনার হয়ে অভিষেক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শেষ মুহূর্তে ইউরোপীয় স্কোয়াডে জায়গা পাওয়া গ্যাব্রিয়েল জেসুসও কোচের গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হতে পারেন।
ফেইনুর্ডের সমস্যাও কম নয়। অস্ট্রেলিয়ান ডিফেন্ডার জর্ডান বোসের চোট তাদের জন্য বড় ধাক্কা। তাঁর অনুপস্থিতিতে লেফট-ব্যাক হিসেবে মিকা মারমোলকে দেখা যেতে পারে। এই ম্যাচটি মারমোলের জন্যও বিশেষ ২০২১-২২ মৌসুমে বার্সেলোনার মূল দলে মাত্র একটি ম্যাচ খেলার পর ক্লাব ছাড়তে হয়েছিল তাঁকে।
আক্রমণভাগেও বড় পরিবর্তনের মুখে পড়েছে ডাচ ক্লাবটি। দলবদলের শেষ দিনে গত মৌসুমের ইরেডিভিসির সর্বোচ্চ গোলদাতা আয়াসে উয়েদা লিলে চলে যাওয়ায় গোল করার প্রধান অস্ত্রটিকেই হারিয়েছে তারা। ফলে ভ্যালেন্সিয়ায় জন্ম নেওয়া ২১ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড নাচো ফেরির দিকেই এখন বেশি তাকিয়ে থাকতে হবে ব্রঙ্কহোর্স্টকে।