বৃহঃস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২
ফাইল ছবি
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট সম্ভাব্য অভ্যন্তরীণ জ্বালানি ঘাটতি পূরণের লক্ষ্যে মার্চ মাসজুড়ে পরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানির ওপর তাৎক্ষণিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে চীন। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত চারটি সূত্রে বরাতে বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
সূত্র জানায়, চীনের জাতীয় উন্নয়ন ও সংস্কার কমিশন (এনডিআরসি) এক আদেশে পেট্রোল, ডিজেল, জেট ফুয়েল বা বিমানের ব্যবহারযোগ্য জ্বালানি রফতানির ওপর এই নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, যা পুরো মার্চ মাস জারি থাকবে।
আদেশে আরও বলা হয়েছে, জ্বালানিবাহী যেসব জাহাজ ১১ মার্চ পর্যন্ত কাস্টমস ছাড়পত্র পায়নি— তাদের ওপরেও এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে। একই সঙ্গে চীনা তেল পরিশোধনকারী সংস্থাগুলোকে নতুন কোনো রফতানির অর্ডার না নিতে এবং সম্ভব হলে পুরোনো অর্ডারগুলো বাতিলের চেষ্টা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, চীন একই সঙ্গে বিশ্বের সর্ববৃহৎ অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আমদানিকারক এবং সবচেয়ে বড় পরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানিকারক, যদিও চীনের নিজস্ব কোনো তেলের খনি নেই।
চীনের তেল ব্যাবসায়ীরা জানিয়েছেন, চন্দ্র নববর্ষের ছুটির সময় অভ্যন্তরীণ চাহিদা কমে যাওয়ায় তারা চলতি মার্চ মাসে তেলের রফতানি বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছিল দেশটির প্রধান তেল কোম্পানিগুলো। তারা মার্চ মাসে পেট্রোল, ডিজেল এবং জেট ফুয়েলসহ মোট ২.২ মিলিয়ন থেকে ২.৩ মিলিয়ন টন জ্বালানি তেল রফতানির প্রস্তুতি নিয়েছিলেন, যা গত ফেব্রুয়ারি মাসের তুলনায় ৩ থেকে ৪ লাখ টন বেশি।
তবে জাহাজ ট্র্যাকার এবং বাণিজ্য সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা গেছে, মার্চ মাসে এখন পর্যন্ত চীন মাত্র ৫০ হাজার মেট্রিক টন পেট্রোল (৪২২,৫০০ ব্যারেল), ৩ লাখ টন ডিজেল (২.২৪ মিলিয়ন ব্যারেল) এবং ৩ লাখ টন জেট ফুয়েল (২.৩৬ মিলিয়ন ব্যারেল) রফতানি করতে পেরেছে।
আপনার মতামত দিন:
(মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।)