সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩
ফাইল ছবি
প্রশান্ত মহাসাগরে পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন থেকে ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে চীনের সামরিক বাহিনী। সোমবার এই পরীক্ষা চালানো হয়েছে বলে দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যমের খবরে জানানো হয়েছে।
বেইজিংয়ের ক্রমবর্ধমান এই সামরিক তৎপরতায় জাপান, অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ড উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা সিনহুয়া বলছে, চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি নেভি একটি পারমাণবিক সাবমেরিন থেকে ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে। সোমবার স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ১ মিনিটে প্রশান্ত মহাসাগরের আন্তর্জাতিক জলসীমা লক্ষ্য করে নকল ওয়ারহেডযুক্ত ওই ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়।
ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রশান্ত মহাসাগরের ‘নির্ধারিত জলসীমায়’ গিয়ে পড়েছে বলে জানানো হলেও স্থানটি ঠিক কোথায়, সে বিষয়ে বিস্তারিত আর কোনও তথ্য দেয়নি বেইজিং। সিনহুয়া এই উৎক্ষেপণকে চীনের বার্ষিক সামরিক প্রশিক্ষণের ‘নিয়মিত আয়োজন’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেছে, এই পরীক্ষা নির্দিষ্ট কোনও দেশ কিংবা লক্ষ্যবস্তুকে উদ্দেশ্য করে করা হয়নি।
অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওয়ং বলেছেন, চীন এই পরিকল্পিত পরীক্ষার বিষয়ে অস্ট্রেলিয়া সরকারকে আগে থেকে অবহিত করেছিল। তবে তিনি চীনের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাকে ওই অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য ‘হুমকি’ বলে অভিহিত করেছেন।
ফিজির রাজধানী সুভায় এক সংবাদ সম্মেলনে পেনি বলেন, ‘‘চীন এমন এক সময়ে এই পরীক্ষা চালাল, যখন দেশটি দ্রুত সামরিক সক্ষমতা বাড়িয়ে চলেছে। অথচ এই অঞ্চলের প্রত্যাশা অনুযায়ী তাদের উদ্দেশ্য নিয়ে স্বচ্ছতা ও আশ্বাসের ঘাটতি রয়েছে।’’
অস্ট্রেলিয়া ও ফিজির মাঝে বড় ধরনের একটি প্রতিরক্ষা জোটে স্বাক্ষর করার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর সোমবার এই পরীক্ষা চালানো হয়েছে। এই চুক্তির ফলে কোনও এক দেশ আক্রান্ত হলে অন্য দেশ তার সহায়তায় এগিয়ে আসবে।
কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই দ্বীপ রাষ্ট্রগুলোতে নিজেদের প্রভাব বিস্তারের জন্য বেইজিং এবং যুক্তরাষ্ট্র-অস্ট্রেলিয়ার নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা বিভিন্ন শক্তি বছরের পর বছর ধরে প্রতিযোগিতা করে আসছে। আর চীন দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরজুড়ে অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা প্রভাব বিস্তার করতে চাইছে।
নিউজিল্যান্ডভিত্তিক জাহাজ ট্র্যাকিং প্রতিষ্ঠান স্টারবোর্ড মেরিটাইম ইন্টেলিজেন্সের বিশ্লেষক মার্ক ডগলাস বলেন, চীনের এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার বিষয়ে অনেক আগে থেকেই পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে অস্ট্রেলিয়া ও ফিজি ‘ওশেন অব পিস অ্যালায়েন্সে’ স্বাক্ষর করার পর চীনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের সময়টি ‘যেকোনও বিবেচনায় বেশ কৌতূহল উদ্দীপক’।
এই প্রতিরক্ষা চুক্তি সম্পর্কে জানতে চাইলে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং বলেন, চীন আশা করে সংশ্লিষ্ট সব দেশগুলো দ্বীপ রাষ্ট্রগুলোর স্বাধীনতা ও স্বায়ত্তশাসনকে সম্মান এবং তৃতীয় কোনও পক্ষের স্বার্থকে লক্ষ্যবস্তু বা ক্ষুণ্ন করা থেকে বিরত থাকবে।